
নিউজ ডেস্ক।।
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটি মায়েদের সম্মান জানাতে উদযাপন করা হয়। মা শুধু একজন অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস। তাই এই বিশেষ দিনে মায়ের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন মানুষ।
বিশ্ব মা দিবসের আধুনিক ধারণাটি শুরু হয় আনা জারভিস–এর উদ্যোগে। তিনি তাঁর মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের আন্দোলন শুরু করেন। পরে ১৯১৪ সালে উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
মা দিবস শুধু উপহার দেওয়া বা শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়; এটি মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন মা সন্তানকে লালন-পালন করতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা মায়ের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন না। মা দিবস সেই সম্পর্ককে আরও গভীর ও আন্তরিক করার সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশ–সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মায়ের সঙ্গে ছবি ও স্মৃতি শেয়ার করছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ সম্মাননা আয়োজন করছে।
অনেকে ফুল, উপহার কিংবা ভালোবাসার ছোট্ট বার্তার মাধ্যমে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু একটি দিন নয়—প্রতিদিনই মায়ের প্রতি সম্মান ও যত্ন দেখানো উচিত।
মায়ের ভালোবাসার প্রতিদান কখনোই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও তাঁর পাশে থাকা, খোঁজখবর নেওয়া, সম্মান করা এবং সুখে-দুঃখে সহযোগিতা করাই সন্তানের প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে মায়ের মানসিক ও শারীরিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব মা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মায়ের স্থান পৃথিবীর সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও মমতার প্রতি সম্মান জানাতে শুধু একটি দিন নয়, প্রতিটি দিনই হওয়া উচিত মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রকাশের দিন।